01নিদর্শন
কুরআনে বলা হয়েছে, গভীর পানিতে যেখানে মানুষ নিজের হাতও দেখতে পায় না, সেখানেও আল্লাহ আলো দিতে পারেন। সন্দেহবাদীরা বলেন, যিনি কুরআন লিখেছেন তিনি ভুল করেছেন; সূর্যের আলো মাত্র ২০০ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর নিচে আগুন বা আলোর কোনো উৎস নেই, তাই ২০০ মিটারের নিচে কোনো আলো থাকতে পারে না। আজ বিজ্ঞানীরা এমন প্রাণী আবিষ্কার করেছেন, যারা হাজার হাজার মিটার গভীরেও নিজের আলো তৈরি করে।
02বৈজ্ঞানিক প্রমাণ
"জীবের নিজের আলো কোথায় দেখা যায় অনেক প্রাণীর মধ্যে নিজের আলো তৈরির ক্ষমতা দেখা যায়, বিশেষ করে খোলা সমুদ্রে—মাছ, জেলিফিশ, কম্ব জেলি, খোলসযুক্ত প্রাণী ও শুঁড়ওয়ালা মোলাস্কদের মধ্যে; কিছু ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে; আর পোকামাকড়সহ স্থলে থাকা নানা মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর মধ্যে। সমুদ্রের উপকূলের পরিবেশে প্রায় ২.৫% জীব নিজের আলো তৈরি করে বলে ধারণা করা হয়। অন্যদিকে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের খোলা পানিতে গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের প্রধান শ্রেণিগুলোর প্রায় ৭৬%-এর আলো তৈরির ক্ষমতা পাওয়া গেছে। প্রাণীদের ৭০০টিরও বেশি গণে আলো তৈরি করতে পারে এমন প্রজাতি নথিভুক্ত হয়েছে। সামুদ্রিক প্রাণীদের বেশির ভাগ আলো নীল ও সবুজ রঙের হয়। তবে ঢিলা চোয়ালের কিছু মাছ লাল ও অবলোহিত আলো দেয়, আর Tomopteris গণের প্রাণীরা হলুদ আলো দেয়।"
প্রাণীরা জৈব আলোক উৎপাদনের মাধ্যমে নিজের আলো তৈরি করতে পারে। বিষয়টি জানা গেছে সম্প্রতি, অথচ আবিষ্কারের ১৪০০ বছর আগেই কুরআনে এটি তুলে ধরা হয়েছিল:
03কুরআনের আয়াত · কুরআন 24:40
أَوْ كَظُلُمَاتٍ فِي بَحْرٍ لُجِّيٍّ يَغْشَاهُ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ مَوْجٌ مِنْ فَوْقِهِ سَحَابٌ ۚ ظُلُمَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ إِذَا أَخْرَجَ يَدَهُ لَمْ يَكَدْ يَرَاهَا ۗ وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ ٤٠
অথবা তা বিশাল গভীর সমুদ্রের অন্ধকারের মতো, যা ঢেউয়ে ঢাকা, তার ওপর আরও ঢেউ, তার ওপর মেঘ—একের ওপর এক অন্ধকার। কেউ হাত বাড়ালে তা দেখতে পাবে না! আল্লাহ যাকে আলো দেন না, তার কোনো আলো নেই!
04ভাবনা
"কেউ হাত বাড়ালে তা দেখতে পাবে না! আল্লাহ যাকে আলো দেন না, তার কোনো আলো নেই!" এই আয়াতে মানুষ সূর্যের আলোতে নিজের হাত দেখতে পায় না, কিন্তু আল্লাহ তখনও আলো দিতে পারেন। এর মানে গভীর পানিতে আলো আছে, তবে তা সূর্যের আলো নয়। আজ বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, গভীর পানিতে প্রাণীরা জৈব আলোক উৎপাদনের মাধ্যমে নিজের আলো তৈরি করতে পারে।
অতিরিক্ত তথ্যসূত্র
মূল লেখা: Miracles of Quran। উইকিপিডিয়ার উদ্ধৃতির লেখক উইকিপিডিয়ার অবদানকারীরা; লাইসেন্স CC BY-SA 4.0। ওই উদ্ধৃতির আমাদের অনুবাদও একই লাইসেন্সের অধীনে। নিচের সারাংশগুলো আলাদাভাবে যোগ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ
ٱللَّهُ نُورُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۚ
আয়াতের শুরুর অংশের অর্থ: আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আলো।
কুরআন ২৪:৩৫-এর শুরুতে আল্লাহকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আলো বলা হয়েছে। আয়াতের বাকি অংশে পথ দেখানোর কথা এবং আলোর উপমা এসেছে। আলো নিয়ে ভাবার জন্য এটি কাছাকাছি আয়াতের প্রেক্ষাপট যোগ করে; জীবের আলো তৈরির কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার নাম এখানে বলা হয়নি।
অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ
ইবনে কাসির ২৪:৪০-এর অন্ধকারকে অবিশ্বাস ও সঠিক পথ না পাওয়ার উপমা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আলোকিত প্রাণীর সঙ্গে মূল লেখার সম্পর্কটি আধুনিক একটি ব্যাখ্যা। সমুদ্র গবেষণা প্রমাণ করে যে এই প্রাণীরা আলো তৈরি করে; তবে আয়াতের উদ্দেশ্য এই বৈজ্ঞানিক অর্থই ছিল, বা মানুষ প্রথম কবে তা জেনেছিল—এসব প্রমাণ করে না।
অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ
২০১৭ সালে Séverine Martini ও Steven H. D. Haddock মন্টেরে ক্যানিয়নের কাছে দূর থেকে চালানো ডুবোযানের ২৪০টি অভিযানে দেখা ৩৫০,০০০-এর বেশি প্রাণীর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। কোন প্রাণীরা আলো তৈরি করতে পারে, সেই জানা তথ্য ব্যবহার করে তাঁরা দেখেন, পৃষ্ঠ থেকে ৪,০০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত দেখা প্রাণীদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আলো তৈরি করতে পারে। ফলটি ওই এলাকার জরিপ করা প্রাণীদের জন্য; সব সমুদ্রের সব প্রজাতির জন্য নয়।
অতিরিক্ত প্রমাণ — সহজ সারাংশ
NOAA জানায়, উপযুক্ত পরিবেশে কিছু সূর্যের আলো প্রায় ১,০০০ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যদিও ২০০ মিটারের নিচে খুব সামান্যই থাকে। তাই মূল লেখার ২০০ মিটার কথাটি চূড়ান্ত সীমা নয়। সূর্যের আলো থাকা স্তরের নিচে জীবেরা নিজেদের আলো দিতে পারে; সূর্যের আলো ও প্রাণীর তৈরি আলো আলাদা উৎস থেকে আসে।
05 · ভেবে দেখুন